Share with your friends
একটি ছোট্টো ক্ষুদ্র ঘটনা

একটি ছোট্টো ক্ষুদ্র ঘটনা – উত্তর কলকাতার গিঞ্জি মধ্যবিত্ত এলাকার মাঝে একটি দোতালা
বাড়ি। আলাদা করে দৃষ্টি আকর্ষণ করার মত কোনো সৌন্দর্য্য তার নেই। কিন্তু তার সামনে
ছিলো একটি ছোট্টো জমির টুকরো, যা সিমেন্ট বাধাই ছিল না।রাস্তা আর বাড়ির মাঝখান জুড়ে
থাকা সেই জমিটি দেওয়াল তুলে আলাদা করা ছিল না। তাই সেই মাটিটুকুতে যে কেউই কিছুক্ষন
কাটিয়ে যেতে পারতো। এই অতি সাধারন কাঁচা মাটিটুকুই দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছেলেটির।

দুপুরবেলার সূর্য যখন সিমেন্ট বাধাই করা এই শহর এর প্রতিটি কোণ উত্তপ্ত করে তোলে, তখন পথের সেই ছেলেটির কাছে ওই কাঁচা মাটির টুকরোটুকুই ছিলো একটু শীতলতার স্পর্শ। সারা দুপুর সে ওইখানেই কাটাতো। তার সাথে আরো একজন সেখানে থাকতো, একটি তুলসী গাছ।

দুপুরে যখন মাটি শুকিয়ে থাকতো, ছেলেটি মোড়ের কল থেকে জল এনে সেটি ভেজাতো। তারপর
শতছিন্ন মাদুরটিকে পেতে সেখানে শুয়ে পড়তো।তার ঠিক মাথার উপরে, নগন্য ছায়া ফেলে দাড়িয়ে
থকতো সেই তুলসী গাছ।ছেলেটি শুয়ে যখন গান গুন গুন করতো, মৃদু হাওয়া এ সেই গাছ যেন তার
গানের সাথেই দুলতো। ছেলেটির দেওয়া নিয়মিত জল এবং তার গাওয়া গান, সেই গাছ কে যেন সবুজ পাতায়ে আরও ঘন করে তুলতো।সারাদিন একটি ফলের দোকানে খাটতো, তারপর দুপুরের ওই গাছের ছায়াএ শুয়ে থাকাই ছিল তার একমাত্র বিলাসিতা। তারপর একদিন দুপুরবেলা সেই ছেলেটি আর এল না। পরের দিন ও এলো না, সাপ্তাহ পেরিয়ে গেল, সে আর এলো না। দুই সাপ্তাহ পেরিয়ে গেল, সে আর এলো না। যেমন হঠাৎ করে সে আসতে শুরু করেছিল, হঠাৎ করেই তা বন্ধ হলো।তার সাথে বন্ধ হলো সেই গান আর সেই নিয়মিত জল সিঞ্চন। দিন আবার আগের মতোই কাটতে লাগলো, কিছুই বদলায়েনি।

কিছুই কি বদলায়েনি!!!……… না, বদলেছে। ছেলেটি আসার আগে যে তুলসী গাছ শুকনো মাটি তে দিব্যি বেঁচে থাকতো, ছেলেটির আসা বন্ধ হওয়ার পর সেই গাছ, আর সেই শুকনো মাটিতে বাঁচেনি। সেই গাছ ও মাটির সাথেই শুকিয়ে মরে গেলো।

Hope you like this short story একটি ছোট্টো ক্ষুদ্র ঘটনা

0

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *