Share with your friends
bengali story rono o rokto IV

bengali story রণ ও রক্ত(part-4)

Click here to read the first part of bengali story রণ ও রক্ত.

Click here to read the third part.

Click here to read the second part.

১২

সদ্য আলো ফুটছে…মোটর সাইকেলএ রণ আর সোহম….হঠাৎ মোড় ঘুরতেই পুলিশের লাঠির আঘাত…দুজনেরই আঘাত লাগে…মোটর সাইকেলএর পেছনটা ভেঙে যায়

রণ-আরে আপনি মারছেন কোন অধিকারে না জেনেশুনে নির্বিচারে।

পুলিশ-কোথায় যাচ্ছিস সাত সকালে ঘরে থাকতে বলেছে জানিস না.

রণ-(গলা চড়ায়) ভদ্রভাবে কথা বলুন…আমরা বাজারে যাচ্ছি আপনি কোন অধিকারে কোন আইনে এইভাবে লাঠিচার্জ করতে পারেন।( গলা শুনে একটুদূর থেকে অফিসার এগিয়ে আসেন)

অফিসার-আরে রণজয়বাবু…কি হয়েছে?

রণ-কি হয়েছে আপনার গুণধর সহকর্মীএর বাঁদরামিতে দেখতেই পাচ্ছেন।

অফিসার- ওফ! তোমরা মাথায় কি নাড়ু পুড়ে ডিউটি করো নাকি…দুঃখিত রণজয়বাবু আপনি বেলায় থানায় আসবেন এটার ক্ষতিপূরণএর ব্যবস্থা করে দেব।

রণ- থাক তার আর প্রয়োজন হবেনা।

( ওরা এগিয়ে যায়)

সোহম- এরকম ঘটনাও লোকে খ্যাকখ্যাক হেসে ভিডিও করবে আর বলবে মারুন আরো মারুন সব অপগণ্ড এত বোঝালেও বোঝেনা।

রণ-সংবেদনশীল মনগুলো মরে যাচ্ছে…যেমন তুই এখনো দেখতে পাসনি রাতের শেষ তারাটাও কি ভীষণ উজ্জ্বল এখনো।

১৩

bengali story রণ ও রক্ত(part-4)

রণদের বসার ঘর রবি ছায়ার সবাই এবং অমিত ও রণএর বাবা মা সকলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসে।

বাবা- আজ ৬দিন হয়ে গেল সব বন্ধ… ব্যবসা বন্ধ… দোকান কারখানার কর্মচারীগুলো খাবে কি এই তিন সপ্তাহ… আর মালিকরাই বা টাকা কোথা থেকে পাবে যে দিয়ে যাবে… প্রতি মাসের কেন প্রতিদিনের আয়ের ওপরেই সবার পেট চলে…সঞ্চিত অর্থ আর কতদিন…আর বিপদের জন্য জমানো অর্থও তো শেষ করে ফেলা যায়না।

বিকাশ- হ্যাঁ সময়টা ভীষণ সংকটের অথচ এছাড়া উপায়ও নেই ডাক্তারাও বারবার বলছেন।

বাবা-নিঃসঙ্গতাই কি তবে অস্ত্র হবে?একলা হওয়াই কি জোর জোগাবে? এ লড়াইয়ের শেষ কবে?

অমিত- জানানেই কাকু…আটকানো তো যাচ্ছেনা কিছু মানুষ নির্বুদ্ধিতার কাজ করেই যাচ্ছেন…স্বাস্থ্যবিধি অস্বীকার করে তথ্য লুকোচ্ছেন…এমন একসময়ে এত অপরাধের সমান।

তিথি- হ্যাঁ…এবার তো মহামারী আইন অনুযায়ী করা পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন নির্মলা দেবী।

সোহম- হ্যাঁ উনি যথা সাধ্য চেষ্টা করছেন এটা সত্যিই সাধুবাদ যোগ্য…আমাদের প্রত্যেকের এমন সংকট সময়ে নিজনিজ দায়িত্ব পালন করা উচিৎ…ঘরে থাকাটা কষ্টের কিন্তু মজার জন্য আটকানো হয়নি এটা মৃত্যু পরোয়ানা রুখতে এটা অস্বীকার তো করা যায়না।

সুনয়না- ওদিকে দেশের জননেতা তো থালা বাজাতে বলেই খালাস…উনি জানতেন না ওনার দেশে এটাও একটা উৎসব হয়ে যাবে? পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতা দেশের প্রকৃতি কি এতটুকু বোঝেননা?

অম্লান-এমনটা বলা যায়না…আরে তুই ভাব একদিনে গোটা দেশের ধর্মজাতি নির্বিশেষে সবাই একটা কাজে সংঘটিত তো হলো…এটা আসলে পাতি মজার ছলেই একতার বীজবপন করা…এটা পরবর্তীকালে আরো বাড়বে…এক দেশ এক নেতা।

রণ-আর সেটাই ভয় অম্লান…মস্তিষ্ক প্রক্ষালন করে এই কিনে নেওয়া মিডিয়া আর ওই ফেসবুক হোয়াটসএপএর তথ্য বিকৃতি দিয়ে যুবশক্তির চিন্তারযুক্তির বোধকে ভোঁতা করে দেওয়া পরাধীন করে দেওয়া যে কী ভয়ঙ্কর হতে চলেছে তা তোমার কথায় আরো স্পষ্ট হলো আমার…অম্লান আমি জানি আমার ভারতবর্ষ জেনএক্স থেকে জেনওয়াই হয়ে ওঠার…আমার ভারতবর্ষ অন্তঃসার শূন্য অন্তর্জালের অন্তরে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান্ত্রিক আন্তরিক উষ্ণতা খুঁজে পেতে ব্যস্ত…আমার ভারতবর্ষ আপন আপন আখের গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত পাশের মানুষের কথা শোনার তার সময় নেই…আমার ভারতবর্ষ ঝকঝকে মেধার…

পৃথিবীর বৃহত্তম যুবশক্তির আধার…সেই আমার ভারতবর্ষে আমার রাজ্যেই শুধুমাত্র প্রতিবছর ৬৭% বেকার স্নাতক তৈরি হয় এবং টুইশনির সন্ধানে ছুটে বেড়ায়…আমার ভারতবর্ষে বিপুল অর্থলগ্নি হয় খেলায় বিনোদনে বহুজাতিক ব্যবসায়…শপিং মল হয় বড়বড় ফুডচেন হয় আবার সেই আমার ভারতবর্ষে প্রতিদিন ৭০০০ মানুষ মারা যায় শুধু খিদেয়…কি চমকে গেলে? ইরোনায় দুসপ্তাহে ২৯জন মারা গেছেন আর আজও গোটা দেশ জুড়ে ৭০০০এর বেশি মানুষ না খেতে পেয়ে মারা গেছে…সরকারের কাছে কোট অনকোট বিপিএল যত জনতার চেয়ে অনেক বেশিজন খিদের জ্বালায় প্রতিদিন মরছে…এটাও আমার ভারতবর্ষ…তাই আজ বাড়ির নিরাপদ আশ্রয়ে থেকে খিদে মেটানোর এবং বিলাসিতার সমস্ত উপকরণ পেয়ে যারা রেশন দোকানে লাইন দেখে তাঁদের অশিক্ষিত, অপগণ্ড আখ্যা দিয়ে লিখে দেয় এবং তারপর যারা চ্যালেঞ্জ একসেপ্টেড দেন এন্ডনাউ কিংবা সেহাই আমি তোমার সম্পর্কে লিখবো এর খেলায় মেতে যায় তারাও যেমন আমার ভারতবর্ষতে মন যারা পুলিশের অকথ্য মার দেখে তার প্রতিবাদ জানায় তারাও আমার ভারতবর্ষ এমনকি মুখ্যমন্ত্রীকেও বলতে হয় পুলিশকে সংযত হতে…আমার ভারতবর্ষ সেই ক্লাব এরও যারা মদের ফোয়ারা ছোটায় তুমুল নাচের গান বাজায় আবার আমার ভারতবর্ষ সেই ক্লাবেরও যারা এই কঠিন সময়ে নিরন্ন রিক্তের কাছে অন্ন পৌঁছে দেয়…

ঠান্ডা ঘরে থাক তুই নিজের মতো –বসে বসে ইরোনা নিয়ে ভাব সবাই ঠিক খেতে পাবে এমন বলা মানুষও আমার ভারতবর্ষ আবার পুলিশের সাথে হাতেহাত মিলিয়ে পথের মানুষ থেকে দিনমজুরদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া মানুষগুলোও আমার ভারতবর্ষ…এক ধাক্কায় সব বন্ধ করে দেওয়ার নিয়ন্ত্রণের সাহস যেনে তার সে ও যেমন আমার ভারতবর্ষের,তেমনি কাছে একটি টাকাও না থাকা রাজপথে কান্নায় ভেঙে পড়া পরিবার বিচ্ছিন্ন রিকসও লাটিও আমার ভারতবর্ষের…১০০০ মাইল পথে পরিবার নিয়ে হেঁটে ফেরার সাহস যারা করে তারাও ভারতবর্ষের,যে লোকটা দুদিন পর ভাত পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে সেও আমার ভারতবর্ষের,যে পরিবার হেঁটে ফিরতে ফিরতে জাতীয় সড়কে রাতের আঁধারে ট্রাকের তলায় পিশে যায় সেই আমার ভারতবর্ষের…

যে ছেলেটা টোটো চালিয়ে মাধ্যমিক দিলো পরিবার চালালো কিন্তু এখন সে কি খাবে কি খাওয়াবে জানেনা সে ও আমার ভারতবর্ষের, আর এমন সময়ও যারা কুকর বিড়ালকে ভাত দিয়ে প্রচার করে বিড়ালকে স্নান করিয়ে গা মুছিয়ে দেওয়ায় মত্ত হয়ে থাকে তারাও আমার ভারতবর্ষএর…ভারতবর্ষের একশো কোটি মানুষ দিন আনে দিন খায়…আমরা বোধ হয় ভাবতেও পারছিনা কি ভয়ঙ্কর দিনে আমরা যাচ্ছি…ওই হত দরিদ্র দিন মজুরদের কাছ থেকেও যারা এসময় ছিনতাই করে তারাও ভারতবর্ষের মানুষ….আমার ভারতবর্ষের। এদেশ বহুত্বের…এদেশ ভেদ বুদ্ধির মাঝে মিলন বাদের ভ্রাত্বিত্বএর….

bengali story রণ ও রক্ত(part-4)

বহু লোক বহু জাতিকে ধারণ করেছে এদেশ নিজেই এক ধর্ম…আমার দেশ কখনো কোনোদিন এক নেতার হতে পারেনা হওয়া সম্ভবই নয়…লাখ লাখ মানুষ রাতের অন্ধকারে যারা বাসএর অপেক্ষায় যাদের কাজ নেই তাই টাকা নেই-নেই খাবার এমনকি মাথার ওপর ছাদ টুকুও যারা কেড়ে নিচ্ছেন এদের থেকে তারাও আমার ভারতবর্ষ…আর এই আমরাই এদের দেখে বলছি এরাই ইরোনা ছড়িয়ে দেবে আরো…আমরা কেউ ভাবছিনা মানুষের হৃদয়ের সহানুভূতির সমস্ত অনুভবটুকু হারিয়ে অস্পৃশ্যতায় ঘৃণায় আমরা জ্বালিয়ে দিতে চলেছি আমাদের সব….সব…(রণএর মা ওর পিঠে হাত রাখেন)

মা-পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন…মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীর কাছে…আমি জানিনা ভয়ঙ্কর ভবিষ্যৎ কি বার্তা আনতে চলেছে…কিন্তু আমি জানি আমরা আবার নতুন করে বাঁচবো এই সংকট সময়ে আমাদের হাতে হাত ধরে শক্ত করে দাঁড়াতে হবে একে অন্যের জন্য ঝাঁপাতে হবে পাশের মানুষটাকে বাঁচাতে হবে প্রার্থনা করতে হবে কথা বলতে হবে ভাবের আদান-প্রদান করতে হবে চিন্তার দিগন্ত খুলবে বাঁচার নতুনতর মাত্রা যোগ হবে শিল্প হবে মানুষ ভাববে আগলাবে আদর করবে ঘৃণা আর হিংসার শেষে ক্ষত মুছে এই নিষ্ঠুরতার ক্লেদ সরিয়ে পৃথিবী আবার শান্ত হবে ভালোবাসবে মানুষ হয়তো অনেক হারাবো আমরা অনেকটা যন্ত্রনা হয়তো বিঁধে যাবে বুকে কিন্তু আমাদের জীবনকে বেছে নিতে হবে যন্ত্রণার অনুভবকে আয়ুধ করেই নতুন করে বাঁচার কথা বলতে পারবো আমরা…নিরন্তর কথা চালাতেই হবে…কথার পথ ভাষার পথ যেখানে রুদ্ধ সেখানে গণতন্ত্র নেই….নিরন্তর কথোপকথনএর মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলে বলেই গভর্নমেন্ট বাইডিসকাশন….শক্ত হও দৃঢ হও কথা চালাও…তোমরা একা নও।

১৪

হাসিনা-ওগো একটু দুধ আর একটু খাবার যা পাবে আনো…বাবুকে কি খাওয়াবো আমাদের তো চলে যাবে।

ইলিয়াস-(শূন্য দৃষ্টি) টাকা যে হাতে ফুরিয়ে আসছে কি করবো…এদিকে সব বন্ধ….যাই দেখি(বেরিয়ে যায়)

(ইলিয়াস দোকান খোলা না পেয়ে বড় রাস্তার বাজারের দিকে হাঁটতে থাকে বিড়ি ধরায় অনেকদিন পর একটা…হঠাৎ বেশ কিছু লোক তেড়ে আসে…প্রচন্ড চেঁচামেচি… “এই এই ঘুরছে…কি রে জানিস না ঘরে থাকতে বলেছে”…এলোপাতাড়ি লাঠির আঘাত ইলিয়াস মাটিতে লুটিয়ে পড়ে)

১৫

ঠান্ডা ঘর…টেবিলে কাজ করছেন নির্মলাদেবী

রণ-আসবো ম্যাডাম?

নির্মলা- এস রণজয়। বলো।

রণ- ম্যাডাম সমস্ত বন্ধ তার প্রয়োজনও ভীষণ…কিন্তু কিছু মানুষএর ফায়দা তুলছে এটা তো হতে দেওয়া যায়না।

নির্মলা-হ্যাঁ তোমাদের এলাকায় ওই রাজবীরের খবর আমি পেয়েছি।

রণ- হ্যাঁ আর সুধাংশুবাবু কি করে ওর সাথে সমঝোতা করলেন বুঝতে পারলাম না।

নির্মলা-আমি বিষয়টা দেখছি রণজয় এরকম সংকটের সময়ে মানুষের বিরুদ্ধে যারা কাজ করবে তাদের আমি বরদাস্ত করবো না কোনো ভাবেই।

রণ-ধন্যবাদ ম্যাডাম।মানুষের সচেতনতার যেমন অভাব তেমন কিছু মানুষ নীতি পুলিশ হয়ে উঠেছে সেইটা আরো ক্ষতি করছে।

নির্মলা- হ্যাঁ যে যা পারছে বলে দিচ্ছে লিখে দিচ্ছে আর এই ফেসবুকে তো গুজবের ছড়াছড়ি…আমি সাইবার সেলকে কড়া হাতে এসব দেখতে বলেছি…ও সময়টা আমাদের এক হয়ে পার করতেই হবে রণ জানি ভীষণ অসুবিধা…অর্থনৈতিক ভাবে ভীষণ খারাপ অবস্থা…এত কিছু করেও অনেক মানুষ কাজ হারাবেন খেতে পাবেন না এ যুদ্ধ শেষে অনেক অভিশাপ আমিও পাবো জানি কিন্তু রণজয় আমিও অসহায় বৃহত্তর স্বার্থে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিতেই হতো তাও আমি যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি যাতে খুব সঙ্কটজনক পরিস্থিতি না হয়…কিন্তু জীবন সংগ্রামের নীতি বেঁচে থাকার এই যুদ্ধে অনেকটাই আমরা হারাবো…আবার নতুন করে গুছিয়েও নিতে হবে ঠিক…(রণএর ফোন বেজে ওঠে)

রণ- সরি ম্যাডাম( নির্মলা ধরতে বলেন)…হ্যাঁ অমিত বল…কি ইলিয়াস! কি করে!…আসছি…ম্যাডাম বকুলপুরে মব পিটিয়ে মেরেছে ইলিয়াসকে…হাসপাতালে নিয়ে গেছে…আমি যাই…

নির্মলা- কি বলছো! আমি এখুনি ফোর্স পাঠাচ্ছি তুমি সাবধানে যাও।

bengali story রণ ও রক্ত(part-4)

১৬

ফাঁকা রাস্তা হাসপাতালের বাঁকটা নিতেই…মোটর সাইকেলে পাথর ছোড়ে কেউ…রণ পড়ে যায়…রাজবীর ও তার দল ঘিরে ধরে…

রাজবীর-শালা বলেছিলাম ঠান্ডা থাক…ওই মালটাকে ও টপকেছি এবার তোকে..

রাজবীর ঝাঁপিয়ে পড়ে…দুজনের প্রচন্ড সংঘর্ষ হয়…হঠাৎ গুলির শব্দ…রণ রাস্তায়…রক্তাক্ত…রাজবীরের দল পালাতে যায়…বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘিরে ফেলে ওদের

সব কোলাহল ছাপিয়ে এক শিশুর ক্ষিদের কান্না আর্তনাদ হয়ে স্তব্দ পৃথিবীর ভারী বাতাসে মিশতে থাকে।

Hope you liked the fourth part of bengali story রণ ও রক্ত.

Click here to read the first part of bengali story রণ ও রক্ত.

To read more exciting creative stories click here.

0

4 thoughts on “bengali story রণ ও রক্ত(part-4)”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *