Share with your friends
story bangla godhuli bela

story bangla গোধূলি বেলায়(part 2)

Click here to read part 1.


 একটা অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসছে। ধরলাম। ওপাশে কাকুমণি,”কি হে অফিসে নাকি? ব‍্যাস্ত?”

– না না বলুন।

– পরের রবিবার সময় হবে?

– কেন?

– আরে বাবা বিয়ের আগে একটু দুজন দুজনকে চিনে নেবে না?

“এখন অফিসে আছি, আমি পরে ফোন করছি”,বলে ফোনটা কেটে দিলাম।

গত দুদিন অনেক চেষ্টা করছি ঐ মুখটাকে মনে না করার, আর আজ যখন কাজে একটু মন বসেছে তখন আবার…! ওদিকে দেবল, তমাল তো আমার নিয়ে মজা করতে ব‍্যাস্ত। তাও যদি মেয়েটা… না আমি ভাবব না।     

      বাড়ি ফিরতে আজ 9 টা বাজল। বাবা বলল” রণিতার নম্বরটা নোট করে রাখ। রাতে ফোন করিস।”

আমি কথাটা শুনলাম কিন্তু উওর দিলাম না। কথায় কথায় বাবা ফোন নম্বরের কথাটা ভুলে গেল।আমি রাতে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ি। আজও 10.30 এ শুয়ে পড়লাম। সকালে উঠে  দেখি দুটো মিসড কল, অচেনা নম্বর। একবার কল ব‍্যাক করি, কিন্তু কোনো লাভ হয় না। যাইহোক আজ অফিসে একটা মিটিং আছে। তাড়াতাড়ি বেরোতে হবে।আজ ইচ্ছে করেই দেরি করে বাড়ি  ফিরব, ঐ এক প্রসঙ্গ আমার আর ভাল লাগছে না।

এর আগে আর একবার আমার এই অবস্থা হয়েছিল। তখন অনেকটা ছোট ছিলাম। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে ঢুকেই অম্বিকার প্রেমে পড়ি। এই এক অনুভূতি! হস্টেলের সবাই আমার পরিবর্তন দেখেছিল। শুধু আমিই নিজেকে বুঝতে পারিনি।

“কি হে অনুভব, আজকাল খুব অন‍্যমনষ্ক থাক দেখি! মুখটাও শুকিয়ে যাচ্ছে, নাকি ওটা বয়সের ছাপ!” পিছন ঘুরে দেখি সেনগুপ্তকাকু।কাকু বলতে থাকে,”আরে পুচকু এবার সত্যি হাইস্কুল পাশ করে ফেলবে! আচ্ছা, (গলাটা নামিয়ে ) তোমার কি কোনো গোপন রোগ…”

story bangla গোধূলি বেলায়(part 2)

আমি চোখ বড়ো করে তাকাই আর উনি, “এই রিক্সা..আমি একটু বাজার যাব।” বলে বেরিয়ে যান।

আমি কিছুই বলতে পারলাম না। হঠাৎ নিজের উপর খুব রাগ হল। আমি কখনও কারো ভুলভাল কথা সহ‍্য করিনি। আর আমায় মা ছাড়া কেউ কথায় হারাতে পারেনি। আর সেই আমি একটা উটকো মেয়ের পাল্লায় পড়ে নিজস্ব সত্তা হারিয়ে ফেলছি! মেয়েটা একটা কনফিউসড ক‍্যারেক্টার! 

               আজ রাতেও ঐ ফোনটা আসবে মনে হচ্ছে। 10.15 ফোনটা আসল। আমি তুললাম।

ওপাশে – ঘুম ভাঙ্গালাম?

– না, বলুন।

– কথা আছে, রবিবার দেখা করুন।

– যা বলার বলুন, আমার রবিবার হবে না।কাজ আছে।

– তবে কাল বিকেল?

– না, অফিসে চাপ যাচ্ছে। আমি রাখছি। বলেই মুখের উপর ফোনটা কেটে দিলাম।

পরশু দিন শনিবার, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ মনে হয়, আমরা তো পরশু দেখা করতে পারি। উফফ আবার ওর কথা ভাবছি। সকালে উঠে কেন জানি না  আজ একটু অন্যরকম লাগছে সবকিছু। এই কদিন কেমন যেন ঘোরের মধ‍্যে কেটেছে! 

– মা, ওমা, মা

– এই সাত সকালে চ‍্যাচাচ্ছিস কেন? ডাকাত পড়েছে?

story bangla গোধূলি বেলায়(part 2)

– আচ্ছা বাবা, তোমার রণিতাকে কেমন লেগেছে?

– আজকাল এইরকম মেয়ে পাওয়া যায়! কি সুন্দর ব‍্যবহার, কথা বার্তা!

– কথাবার্তা? কি এমন কথা বলেছ?

– কেন পাকা কথা হওয়ার পর থেকে মাঝে মাঝেই আমাদের সাথে ফোনে কথা হয়েছে।

– ক’মিনিট?

– একদিন 45 মিনিট আর দুদিন আধঘণ্টার বেশি।

-আর মা, তোমার কেমন লেগেছে?

– খুব বুদ্ধিমতি মনে হয়েছে আমার। মেয়েটা একটু কম কথা বলে। আর সাধারণত যারা কম কথা বলে তারা একটু বিচক্ষণ হয়। কেন বল তো? তোর কেমন লেগেছে ওকে?

– হুম, বিচক্ষণ। যাই তৈরী হয়ে নি। দেরী হয়ে যাবে অফিসে।           

 অফিসে ঢুকে নিজের জায়গায় বসে একটা sms করি। একটু পরে ফাইল জমা দিতে বস্ কাছে যাব এমন সময়,

দেবল- এই যে সব জিনিসের upgradation হচ্ছে, তা তোরা কি জানিস চিঠির upgraded version টা কি?

তমাল – whatsapp text

দেবল- উহু, হল না, চিঠির upgraded version হল পাতি sms, খেয়াল করে দেখবি অনেক মোবাইলে sms এর চিহ্ন চিঠির মতো। 

story bangla গোধূলি বেলায়(part 2)

           আমি ওদের দিকে একবার তাকালাম, নাহলে ওদের হাসিটা ঠিক  জমছিল না। তারপর বসে্র ঘরে গেলাম। আমায় ফিরে আসতে দেখে,

দেবল- একটা সত্যি কথা জানিস তো তমাল, মেয়েদের মধ্যে একটা অদ্ভুত ক্ষমতা থাকে। ওরা খরস্রোতা নদীকেও শান্ত করতে পারে।

আমি আর চুপ করে থাকতে পারলাম না। বললাম,” দেবল, নারী চরিত্র নিয়ে দয়া করে গবেষণা করিস না। একটাও থিসিসও বের করতে পারবি না।”

দেবল- নিজে অকৃতকার্য তাই বলছিস?

আমি – আমি ঠেকে শিখেছি ভাই! 

তমাল – কি শিখলি?

আমি – মেয়েদের ততটুকু জানতে হয় যতটা তারা জানতে দেয়। তার থেকে একচুল বেশি বা কম নয়।

প্রিয়সী – বেশি নয় বুঝলাম কিন্তু কম নয় কেন? 

আমি – কম হলে I am not her type.

দেবল – এত কিছু কি রণিতা বোঝাল?

আমি – অম্বিকাও বোঝাতে চেয়েছিল বোধ হয়, তখন বুঝিনি। ছাড় ওসব। বলছি পাশে ঐ নদীঘাট কি প্রেম নিবেদনে উপযুক্ত? 

তমাল – 100%       

story bangla গোধূলি বেলায়(part 2)

মোবাইলে চোখ রাখতেই দেখি 2 মিনিট আগে Message – “okay”. 

কাকুমণিকে একটা ফোন করে নিলাম। এবার কাজে মন দেওয়ার চেষ্টা করলাম।অন‍্যদিন সবার শেষে আমি বেরোই, আজ আমার তাড়া দেখে গোটা অফিস চমকে গেল। যখন বেরোচ্ছি তখন দেবল,”100 on 100 চাই।”

তমাল – একচুল বেশি বা কম নয়।আমি হেসে বেরিয়ে গেলাম।

আধঘন্টা আগেই চলে আসলাম। কিন্তু একটু দূরে দাঁড়ালাম। সময় কাটাতে চা খেলাম। ও আসল সময়ের দশ মিনিট আগে। আমি দাঁড়িয়েই থাকলাম। সঠিক সময়ে ওর সামনে গেলাম।

– খুব punctual ! নাকি অনেক আগে থেকেই অপেক্ষা করা হচ্ছে?

– চলুন সিঁড়িতে বসি।

– সাঁতার জানেন?

– না। তবে গায়ে শক্তি আছে।

– শক্তি কাপুর?

– Muscle strength.

– বুঝলাম, তা শক্তি দিয়ে ঢেউগুলোকে পরাজিত করবেন?

– না তো। শক্তি দিয়ে আপনাকে জল থেকে  টেনে তুলব।

– explain

– আপনি সাঁতার জানেন। তাই আমি পড়ে গেলে আপনি জলে নামবেন। কিন্তু ঐ ঢেউ এর দাপট থেকে নিজেকে আর আমাকে বাঁচানোর পর আপনি ক্লান্ত হবেন। তখনই কাজে লাগবে আমার শক্তি।

– আপনি বাংলা সিরিয়াল দেখেন?

– কেন হিন্দি সিনেমায় এগুলো হয়না বলছেন! 

– (আমি একটা সিগারেটের প‍্যাকেট এগিয়ে দিয়ে বললাম ) নিন।

– আমি খাই না।(অন‍্যমনষ্কভাবে কথাটা বলে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল) মুড নেই।

– চা চলবে?

– দৌড়বে।

আমি মাটির ভাঁড়ে চা আনলাম।তারপর ওর পাশে গিয়ে বসে বললাম,”এবার তবে জরুরি কথায় আসা যাক।”

– হুম, আপনার মূল্যবান সময় নষ্ট করলাম। বলুন।

 – কেরিয়ার নিয়ে কি প্ল‍্যান?

– বিদেশে postdoct এ যাব। আর তারপর ওখানেই থেকে যাব।

– Husband কে নিয়ে যাবেন?

story bangla গোধূলি বেলায়(part 2)

কথাটা শুনে ও আমার দিকে মুখ ঘোরাল। একঝলক আমার চোখের দিকে চেয়ে আবার আগের মতো জলের দিকে তাকিয়ে বলল,”ভেবে দেখিনি, husband কে নিয়ে যাব নাকি ওখানেই একটা জুটিয়ে নেব!”

– আমার মনে হয় নিয়ে যাওয়া ভালো। কারণ husband ছাড়া আপনার বাড়ির লোক আপনাকে বিদেশ যেতে দেবে বলে মনে হয় না।

– আপনাকে ওরা বলেছে?

– কেন, আপনিই তো বললেন সেদিন।

– কি বলেছি?

– আপনি PhD করছেন। আর এত ভুলো মন আপনার! আবার ও আমার দিকে তাকাল। এই প্রথম ওকে থতমত খেতে দেখলাম।

চোখ নামিয়ে নিয়ে বলল,” আমার তো মনে হচ্ছে  ভুলো মন আপনার।”

– আচ্ছা তাই সই। তা কি ভুল করেছি বলা যাবে?

– আমি আপনাকে বলেছিলাম আমি বিয়ে করব না।

– ওও হ‍্যাঁ হ‍্যাঁ, আপনি আমায় বিয়ে করবেন না বলেছিলেন। আমি একদম ভুলে গিয়েছিলাম। তা আপনার prince এর নাম আমায় বলা যাবে?

-(আমার দিকে তাকিয়ে ) আমার prince!

– অবশ‍্য না থাকলে কি বলবেন!

– কে বলল নেই?

– আপনি prince শুনে অবাক হলেন, তাই..

– আপনাকে কেন বলব?

– কারণ আপনার আর আমার বিয়ের আয়োজন চলছে। আর আপনি বড়োদের সামনে এই বিয়েতে সম্মতি জানিয়েছেন।

– তাই বলতে হবে।

– না বললে আপনার পালানোতে সাহায‍্য করব কি ভাবে!

– অভিজ্ঞতা আছে বলে মনে হচ্ছে! তা আজ অবদি কটা মেয়েকে পালাতে সাহায‍্য করেছেন?

– practical অভিজ্ঞতা নেই ,তবে শক্তি আছে।

– তা এক্ষেত্রে শক্তি ঠিক কি করবে?

আমি ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিসিয়ে বললাম,” বিয়ের দিন রাতে আপনাকে পালিয়ে বিয়ে করার ক্ষেত্রে সাহায্য করবে।”

ও চোখগুলো পাকিয়ে বলল,” আপনাকে কাকুমণি সব বলে দিয়েছে?”

– না তো!

– মিথ্যে কথা আমি একদম পছন্দ করি না।

– আরে রেগে যাচ্ছ কেন! আমায় কাকুমণি  সবকিছু বলেন নি। আমি যেটুকু জিজ্ঞাসা করেছিলাম সেইটুকু বলেছেন।

– তা এই যেটুকু টা কতটুকু?

– শুধুমাত্র একটা প্রশ্ন, তোমার বিয়ে নিয়ে কোনো অভিনব ইচ্ছে আছে কিনা।

– কাকুমণি কি বলেছিল?

– তুমি পালিয়ে বিয়ে করতে চাও, তাও আবার বরের সাথে পালিয়ে। বাড়ির লোককে বিয়ের রাতটা নাস্তানাবুদ করে, পরের দিন সেই বরের সাথে বিয়ে করে ফিরে এসে, কি ঠিক বলছি তো!

cheater

– এই, আমি cheater হলে তুমি তো চিটারের ঠাকুমা। দুএকবার কোথায় নাটকে পাট করেছ, আর নিজেকে বড়ো অভিনেত্রী ভাবছ! 

– কেন আমি যা তাই নিজেকে ভাবি।

-আমার সেই প্রথম দিন থেকে সন্দেহ ছিল। আজ একটু মাথা খাটাতে সব পরিষ্কার হল, তবে কাকুমণির hints টা কাজে… 

আমায় কথা শেষ করতে দেয় না, আমার জামার কলার টেনে মুখটা আমার কানের কাছে নিয়ে এসে বলে,

– আমি চিটারের ঠাকুমা নই, চিটারের হবু বউ।

Hope you liked the second part of the bengali story Goduli belai.

To read more exciting creative stories click here.

3+

3 thoughts on “story bangla গোধূলি বেলায়(part 2)”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *