human

মেঘের মন​ – A short Bengali love story

মেঘের মন​ ​- দিগন্তে রক্তিম সূর্য প্রায়ান্ধকার সময় সামনে বিস্তীর্ন সবুজ-আলের ওপর দাঁড়িয়ে আছে একটি মেয়ে ছিপছিপে গড়ন কোঁকড়ানো মেঘরাশির মতো চুল..ঋজু দাঁড়ানোর ভঙ্গি -সাধারণ নারী এমন ভাবে দাঁড়ায়না আর চোখ দুটিতে ভীষণ দীপ্তি  দৃষ্টি নিবদ্ধ সবুজ মাঠের নির্দিষ্ট এক ক্ষেত্রে। -ঐখানেই দাদুকে শেষ দেখা দেখেছিলে না? চমকে ওঠে মেয়েটি ।আকস্মিকতায় নয় – কণ্ঠস্বর খুব পরিচিত হৃদয়ের ভীষণ গোপন আপন এবং এই মুহূর্তে অপ্রত্যাশিত বলেই -হ্যাঁ ঐখানেই…আগুন জ্বলছিলো অনেক লোক ঘিরে দাঁড়িয়েছিল -আমি সেদিনও এখানেই দাঁড়িয়েছিলাম…কিন্তু তুমি এখানে কি করে? কখন… -কত বছর হয়ে গেল সুমি? হঠাৎ এই ডাক টা যেন শীতল স্তব্ধ করে দিলো মেয়েটিকে….যেন বহুযুগের ওপার থেকে সুনামির তীব্র শীতল ঢেউ হয়ে আছড়ে পড়লো নাম টা সুমি…শুভমিতা তার ভালো নাম -সুমি! এই নাম টা…!আজ ও আজ ও আমায় এমন করে ভেজাতে পারো তুমি (দু চোখে জল টলমল)…কেন কেন এভাবে দুর্বল করে দাও আমায়…কেন ডাকো আর… মেঘের মন​ -আমার যে ডাকতে ভারী ভালো লাগে….ও নাম আমার বীজমন্ত্র…আমি আপন খেয়ালে আওরে যাই…জোর পাই…ভীষণ জোর…তুমি যে আমার মধ্যে ভীষণ… -এই যে শোনো আমি বিবাহিতা…এই দেখ সিঁদুর হাতে নোয়া….আমার সমস্ত টুকুতে অন্যের অধিকার। -(স্মিত হাসি) আজও নাম টুকু ধরে ডাকতে পারলে না…সেই এই যে…কিগো কিংবা কখনো শুধু ‘এই’আর নয়তো আছে তো তোমার ঐ সকল শূন্য করা চোখ দুটো…ভারী মজা লাগে জানতো তোমার এই অস্থিরতা আমায় ভীষণ প্রাণ দেয়… -সে প্রাণ নিয়ে কি হলো ? পেলে কি?জীবনটাই তো ব্যথায় ভরালাম তোমার…কেন এলে আবার আজ এখন এভাবে….(অন্ধকারে ভালো দেখা যায়না কিন্তু বোঝা যায় সুমির চোখ ক্রমশ ভিজে আবছা হচ্ছে) -দখল তো চাইনি সুমি-সে দখলের ব্যর্থ হতাশাটুকুও নেই আমার….আমার যে বাঁচার জন্য তোমার অঙ্গবিহীন আলিঙ্গনটুকুর অপরিমেয় লোভ (ছেলেটি আলের ওপর বসে …ইশারা করে সুমিও এসে বসে পাশে..তবে খানিক দূরত্বে) সুমি-আর সে লোভে পুড়ে জ্বলছ তো আজও…কি পেলে বলো …তুমি কেন…তুমি কি বলোতো….এভাবে কেউ ভালোবাসে আজ এখনো….আজও এতো জোর কেন তোমার…আজ বুঝি দুর্বল করতে এলে? মেঘের মন​ -আমার সে সাধ্য কি তোমায় দুর্বল করি(হাসে)…তুমি বলেছিলে একবার নিয়ে আসবে এই সবুজের প্রান্তে…তোমার দেশে …তুমি তো নিয়ে এলে না …জানোই তো আমার জেদ! নিজেই চলে এলাম…খারাপ করলাম বুঝি? সুমি একটুক্ষণ চুপ… -তোমার আজ ও মনে আছে?এরকম ই এক বিকেল ছিল না সেদিন? তুমি ছিলে হোস্টেলের ছাদে…দুটো মুঠোফোনে সব বাঁধা পেরিয়ে কিরকম শিশুর মতো চেয়ে বসেছিলে আমায় একবার নিয়ে যাবে সুমি…এই কালো ধোয়ার শহর ছেড়ে একটু সবুজে ওই খোলা আকাশে…ওই ক্রান্তিলগ্নের সূর্য আর তুমি…তোমার দেশ …নিয়ে যাবে…বারবার তুমি আমার চোখ টা ভেজাও কেন গো …ঠিক থাকতে দাও না…. -আছো তো ঠিক? ঠিক নেই তুমি? চোখের জলে ঘুমোও…চোখের জলে ওঠো…যা ঠিক যেটা উচিত সেটাকেই বেছে নিয়েছো…যা অনুচিত তাকে দূরে সরিয়েছো …ঠিক মানুষ হবে বলেছিলে হয়েছ…হয়ে আছো তো …ঠিক….ঠিক মানুষ….তাহলে আর চোখে ভেজে কেন? কে তুমি…আমি তোমার কে! -কেউ নয়…কেউ নই আমি….(একাধিক বার বলে যায়) মেঘের মন​ (ছেলেটি স্নিগ্ধ শীতল কিন্তু ভীষণ তীব্র চোখে চেয়ে থাকে সুমির দু চোখের দিকে) -পারো নাতো…আজ ও পারলে না আড়াল করতে নিজেকে….সুমি দুর্বল কে তাহলে …উচিত হওয়ার খেলায় ঠিক মানুষ হয়ে ওঠার খেলায় মেতে যে মানুষটা সত্যি টা চোখের সামনে দেখেও চুপ করে মিথ্যটাকে বারবার সত্যি করে তুলতে চায় সে না যে শুধু ভালোবাসা টুকু রাখতে চায় বাঁচতে চায় ওই ঠোঁটের ফাঁকে চিলতে হাসিতে জীবনের আনন্দটা খুঁজে নেয়…নিজের মধ্যে তোমাকে বাঁচিয়ে নিয়ে যে জীবনের এতগুলো বছর জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ গুলো করতে করতে-একাকী নীরবে নিভৃতে নিজের সমস্ত যন্ত্রনা পেরিয়ে জীবনের শ্রেষ্ঠ অনুভব গুলোও যে একান্তে শুধু তোমার সাথে ভাগ করতে করতে বেঁচেছে সে দুর্বল? -কেন ? কেন এভাবে আজও আগলে বাঁচো আমায় ? আমি যে তোমায় ঝুলিয়ে…আমি কি বিষাক্ত…বড্ড খারাপ আমি…(হাত দুটো আছড়াতে যায় মাটিতে ঋজু ধরে নেয়) -সুমি কতবার বলেছি এভাবে বলবে না …না কোনো অধিকার নেই তোমার আমার সুমিকে এভাবে অপমান করার… -অপমান…অপমান শব্দটা অনেক বড় …ঋ আর আমি পারি না …তুমি চলে যাও ঋ…আমি একা…একাই থাকতে চাই…যেখানেই যাই সবাই বলে চুপচাপ কেন…ওর সাথে যাই …ভাবি ওর সাথে সময় কাটালে জোর পাবো…কিন্তু কোথায় কি…আরো দুর্বল হই…মায়া বেড়ে যায়…অথচ এদিকে… -এদিকে কি? -সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে আমি পারছি না …যন্ত্রনা হচ্ছে ভীষণ ঋ…দিনের শেষে তোমার্ কাছে ফিরতে ইচ্ছে হয়…কেমন আছো কি করছো কি খেলে আর ওই নিশাচর অসভ্যর মতো রাত জেগে শরীর টা ভাঙচ কিনা জানতে ছটফট করি…পাগল পাগল লাগে এখন…কারুর সাথে মিশতে ভালো লাগে না কারোর সাথে না…একা থাকতে চাই ..পালিয়ে পালিয়ে বেড়াই।এই বেশ বসেছিলাম তুমি এলে আবার সমস্তটা ঘেঁটে দিলে কেন?কেন এলে ঋ যাও না চলে যাও না -আমায় যে আলো যোগায় তার প্রাণ উৎস কে আমি অন্ধকার হতে দি কি করে বলোতো সুমি…সুমি রাত্রি শেষে আঁধার নামে সুয্যি ওঠে ওই পারে- তখন তুমি খুব খুঁজো আমায় -জীবনের এই স্বপ্ন পারে-আগুন আঁচে আমার প্রানের ওম টুকু নিয়ে যেয়ো….ভীষণ আবেগ স্মৃতির তাপে মুহুর্ত টুকুই থাকুক প্রিয়…আমাদের… -কবিতা…লেখো আজও? -কবিতা…সেই তো আমাদের প্রানসূত্র …বেঁধেছে এমনতরো ডোর…শত দীর্ণ কালের ঘাতে তবু ভিতরটুকু পরিপূর্ণ… -কথায় আজ ও সাধ্য নেই তোমার সাথে পারি… -পারতে নাকি আর ?পারতে ভীষণ ই পারতে…আমার ওপর অমন জোর আর কার ই বা ছিল !আছে….তাই তো দেখো শেষে যাওয়ার আগেও একবার তোমার কাছেই ফিরতে… -শেষ মানে? কোথায় কি? কি সব বলছো? এই ঋ…. -আরে না কিছু না….বলছি তা এখানেই বসে থাকবে?….বকতে বকতে আঁধোকার হলো যে… -বকতে বকতে কত রাত ভোর হয়েছে…বকতে বকতে কত সকাল দুপুর গড়িয়ে সন্ধ্যে হয়েছে…বকতে বকতেই তো বলো….আমাদের কথা টুকুই তো ছিল বলো….আজও একটিবার আঙ্গুল এর ফাঁকে আঙ্গুল টা দিয়ে বলে গেলে না তো…. -না বলা নীরব অনুভবে তোমায় যে অসীম শূন্যের মহাকাশে পেয়েছি…বলতে গিয়ে আর পৃথিবীর এই ক্ষদ্ররূপে তোমায় খুঁজি কেন…. -সেই …আর তোমার এই ব্যক্তিত্বের তীব্র নিবিড় আকর্ষণে আমার ভীষণ একান্তে তুমি আমায় পুড়িয়েছ বারবার….আকুল হয়ে চেয়েছি তোমায়… -তবু দায় এড়াতে পারোনি আর আমিও বুঝি আমার এই ভীষণ আত্মভিমানী দৃঢ় এক সম্পূর্ণ নারীটিকে প্রবল দুর্নিবার প্রেমে চেয়েও দখল করতে পারিনি…মুঠোয় না চেয়ে প্রাণের মাঝে আলোকবিন্দুটিতে প্রতিষ্ঠা করেছি…ঠিক আর ভুল সে আমি জানি না জানতে চাইওনা শুধু জানি …ওই দুটো চোখ ….ওই আগুন ওই প্রানের তাপ এ জীবনে আর কোনো নারীতে পেলাম না….ও যে আমার চেতনার উন্মাদ উচ্ছাস…শিকারের নয়…প্রেমের পিপাসার আঘ্রানের-আস্বাদ এর… -তুমি যাও চলে যাও ঋ….কথা বন্ধ ছিল কথা বন্ধ থাক…আর না যাও… মেঘের মন​ -যাই…আজ …হ্যাঁ শোনো(উঠতে গিয়ে গান গেয়ে ওঠে) যে পথে যেতে হবে সে পথে তুমি একা নয়নে আঁধার রবে ধেয়ানে আলোকরেখা সারাদিন সঙ্গোপনে সুধারস ঢালবে মনে পরানের পদ্মবনে বিরহের বিনাপানী ভরা থাক ভরা থাক স্মৃতি সুধায় হৃদয়ের পাত্রখানি… …

মেঘের মন​ – A short Bengali love story Read More »

সব চরিত্র কাল্পনিক – A Bengali Short Story

সব চরিত্র কাল্পনিক -পুরোনো জং ধরা কলকব্জা সমেত কাঠের মোটা দরজাটা খুলতে বেশ বেগ পেতে হলো অন্তহীনকে। এতো বছর ধরে পড়ে থাকা বন্ধ দরজা। এদিকটা তেমন কেউ আসে না। আসলে অন্তহীন কাউকে আসতে দ্যায়ে না।ঘরটা অন্ধকার, বহুকালের ধুলোর স্তর পড়ে আছে মেঝেতে। দরজা দিয়ে ঢোকা আলোতে বহুকালের নিস্তব্ধ গম্ভীরতা আড়মোড়া ভেঙে যেন চোখ খুললো।  ঘরটার …

সব চরিত্র কাল্পনিক – A Bengali Short Story Read More »